তুরস্কের সামরিক সক্ষমতা
উসমানীয় খিলাফাতের কেন্দ্রস্থল, বর্তমানে প্রজাতান্ত্রিক তুরস্ক সামরিক সক্ষমতার দিক থেকে বিশ্বে অন্যতম শক্তিধর দেশ । ১৯২৩ সালে উসমানীয় সাম্রাজ্যের তুর্কিভাষী এলাকা আনাতোলিয়া ও পূর্ব থ্রাস নিয়ে মুস্তাফা কেমাল (পরবর্তীতে কেমাল আতাতুর্ক)-এর নেতৃত্বে আধুনিক তুরস্ক প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা হয়। ১৯৩৮ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আতাতুর্ক তুরস্কের রাষ্ট্রপতি ছিলেন। জনশক্তি, যুদ্ধাস্ত্র, প্রযুক্তি-প্রশিক্ষণ ও সামরিক ব্যয়সহ বিভিন্ন দিক থেকে তুর্কি সামরিক বাহিনী বিশ্বের সেরা বাহিনীগুলোর একটি। ১৯৫২ সাল থেকেই দেশটি বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্য। বর্তমানে দেশটির সামরিক বাজেট ছিল ১ হাজার ৮১৮ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার ।
তুরস্কের সামরিক শক্তির র্যাংকিং:-
:-বিশ্বে ৯ম
:-ন্যাটো জোটে ৪র্থ
:-এশিয়ায় ৪র্থ
:-মধ্যপ্রাচ্যে ১ম
:-মুসলিম বিশ্বে ১ম
:-বিশ্বে ৯ম
:-ন্যাটো জোটে ৪র্থ
:-এশিয়ায় ৪র্থ
:-মধ্যপ্রাচ্যে ১ম
:-মুসলিম বিশ্বে ১ম
সংবিধান অনুযায়ী দেশটির প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান তুর্কি সামরিক বাহিনীর বর্তমান কমান্ডার ইন চিফ । প্রতিরক্ষামন্ত্রী হলেন সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে আর বাহিনীর কার্যক্রম সমন্বয় ও পরিচালনা করেন চিফ অব জেনারেল স্টাফ বা সশস্ত্রবাহিনী প্রধান। তুর্কি সামরিক বাহিনীর বর্তমান সদস্যসংখ্যা ৪ লাখ ১০ হাজার। আর রিজার্ভ সদস্য রয়েছে আরো ১ লাখ ৮৫ হাজার ৭০০ জন। আধা সামরিক বাহিনীর সদস্যসংখ্যা ১ লাখ ৫২ হাজার। সব মিলে দেশটির বর্তমান সামরিক জনশক্তি ৭ লাখেরও বেশি ।
:-অ্যাকটিভ রিজার্ভ পার্সনেলঃ ৩ লক্ষ ৬০ হাজার ৫৬৫
:- টোটাল মেলেটারি পারসোনেলঃ ৭ লক্ষ ১০ হাজার ৫৬৫
স্থলবাহিনীঃ
:-ট্যাংকঃ ২৪৪৬
:-আর্মর্ড ফাইটিং ভেহিক্যালসঃ ৯০৩১
:-সেল্ফ প্রপেলড গানসঃ ১০১৮
:-টাওয়ার্ড আর্টিলারিঃ ৮৭২
:-মাল্টিপল-লঞ্চ রকেট সিস্টেমঃ ৪১৮
বিমানবাহিনীঃ
:-টোটাল এয়ারক্রাফটঃ ১০৫৬
:-ফাইটার্সঃ ২০৭
:-ফিক্সড-উইং অ্যাটাক এয়ারক্রাফটঃ ২০৭
:-ট্রান্সপোর্ট এয়ারক্রাফটঃ ৪৪৫
:-ট্রেইনার এয়ারক্রাফটঃ ২৮৭
:-হেলিকপ্টার্সঃ ৪৭৫
:-অ্যাটাক হেলিকপ্টার্সঃ ৫৪
নৌবাহিনীঃ
:-নেভাল স্ট্রেন্থসঃ ১৯৪
:-ফ্রিগেইটসঃ ১৬
:-কর্ভেটেসঃ ১০
:-সাবমেরিনসঃ ১২
:-কোস্টাল ডিফেন্স ক্রাফটঃ ৩৪
:-মাইন ওয়্যারফেয়ারঃ ১১
সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী নিয়ে তুরস্কের প্রতিরক্ষা বাহিনী গঠিত। জেন্ডারমেরি ও কোস্টগার্ডরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে কাজ করলেও যুদ্ধের সময় এরা যথাক্রমে সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীর কমান্ড অনুসরণ করে। এ সময় বাহিনী দু’টিতে নিজস্ব আইন কার্যকর থাকলেও এরা সামরিক কিছু নিয়মকানুন মেনে চলে।
ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে তুরস্কের প্রতিরক্ষা বাহিনী হচ্ছে ৪র্থ বৃহত্তম। ন্যাটোভুক্ত যে পাঁচটি দেশ যৌথ পরমাণু কর্মসূচি গ্রহণ করেছে তুরস্ক তার অন্যতম সদস্য। বাকি দেশগুলো হলো বেলজিয়াম, জার্মানি, ইতালি ও নেদারল্যান্ড। প্রতিরক্ষা বিভাগকে আধুনিকীকরণের লক্ষ্যে ১৯৯৮ সালে তুরস্ক ১৬ হাজার কোটি ডলারের কর্মসূচি গ্রহণ করে।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মিশনে তুর্কি বাহিনী কাজ করছে। জাতিসঙ্ঘ ও ন্যাটোর অধীনেই তারা বিভিন্ন মিশনে অংশ নিচ্ছে। জাতিসঙ্ঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীর অধীনে তুর্কি বাহিনীর সদস্যরা বর্তমানে সোমালিয়ায় কাজ করছে। এ ছাড়া সাবেক যুগোস্লাভিয়ায় শান্তি মিশনে ও প্রথম উপসাগরীয় যুদ্ধে যৌথ বাহিনীর সাথে সহায়তা করেছে। বর্তমানে তুর্কি স্বীকৃত সাইপ্রাসে ৩৬ হাজার তুর্কি সেনা দায়িত্ব পালন করছে এবং ন্যাটো নেতৃত্বাধীন বাহিনীর সাথে ২০০১ সাল থেকে আফগানিস্তানেও দায়িত্ব পালন করছে তুর্কি সেনারা। ইসরাইল-লেবানন সঙ্ঘাত এড়াতে জাতিসঙ্ঘ শান্তিরক্ষা মিশনের আওতায় ২০০৬ সালে সংশ্লিষ্ট এলাকায় তুরস্ক কয়েকটি যুদ্ধজাহাজ ও ৭০০ সৈন্য মোতায়েন করে।
দেশটির সেনাপ্রধানকে নিয়োগ দেন প্রেসিডেন্ট কিন্তু তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে দায়বদ্ধ। জাতীয় নিরাত্তার ব্যাপারে দেশটির মন্ত্রিপরিষদ পার্লামেন্টের কাছে দায়বদ্ধ। কোনো যুদ্ধ ঘোষণা, বিদেশে সৈন্য প্রেরণ কিংবা দেশের ভেতরে বিদেশী সৈন্যদের ঘাঁটি স্থাপন প্রত্যেকটি বিষয়েই পার্লামেন্টের অনুমোদন লাগে।
Bangladeshi Taka Converter
No comments
If you have any doubt, please let me know that with your valuable comments.