কে ছিল এই জামাল খাশোগি?

জামাল খাশোগি ছিলেন বিখ্যাত সৌদি সাংবাদিক এবং সমসাময়িক অন্যতম সেরা রাজনৈতিক মন্তব্যকারী। প্রখ্যাত এই সাংবাদিক তার জীবনের ৩০ বছর কাটিয়েছেন সাংবাদিকতা পেশায়।১৯৫৮ সালে সৌদি আরবের মদিনায় জন্ম তার। একসময় তিনি সৌদি রাজপরিবারের ক্ষমতাবৃত্তের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। রাজপরিবারে সংস্কারবাদী হিসেবে তার সুনাম ছিল। সৌদি আরবের আঞ্চলিক ও ঘরোয়া অনেক নীতিমালার সমালোচনাও করতেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতা নিয়ে পড়ার পর ইংরেজি ভাষার সৌদি গেজেট পত্রিকায় প্রতিনিধি হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করেন জামাল খাশোগি।১৯৮৭ থেকে ১৯৯০ পর্যন্ত তিনি লন্ডন-ভিত্তিক সৌদি মালিকানাধীন আশারক আল-আওসাতের প্রতিনিধি ছিলেন। এছাড়া আরব দুনিয়ায় বহুল পরিচিত আল হায়াত পত্রিকায় ৮ বছর কাজ করেন তিনি। তবে খাশোগি সবচেয়ে বেশি পরিচিতি পেয়েছেন নব্বইয়ের দশকে আফগানিস্তান, আলজেরিয়া, কুয়েত ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে সংবাদ করার কারণে। নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি তিনি বেশ কয়েকবার ওসামা বিন লাদেনের সাক্ষাৎকার নেন।
১৯৯৯ সালে সৌদি আরবের বিখ্যাত পত্রিকা আরব নিউজের উপ-সম্পাদকের দায়িত্ব লাভ করেন। চার বছর সেখান থেকে তিনি আল ওয়াতান পত্রিকার প্রধান সম্পাদকের পদ পান। তবে ২০০৩ সালে মাত্র দুই মাসের মাথায় কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই সেখান থেকে তাকে বরখাস্ত করা হয়। তবে কেউ কেউ মনে করেন, তার গৃহীত ‘সম্পাদকীয় নীতি’ই ছিল এর কারণ।এরপর তিনি সৌদি আরবের গোয়েন্দা সংস্থা জেনারেল ইন্টিলিজেন্স ডিরেক্টোরেটের প্রধান প্রিন্স তুরকি বিন ফয়সালের গণমাধ্যম উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেন। এরপর ২০০৫ থেকে ২০০৬ সালের শেষ পর্যন্ত তিনি যুক্তরাষ্ট্রে সৌদি রাষ্ট্রদূত ছিলেন।
২০০৭ সালে তিনি ফের আল ওয়াতান পত্রিকার সম্পাদক হন। কিন্তু ২০১০ সালে তাকে ফের বরখাস্ত করা হয়। নিজের ওয়েবসাইটে খাশোগি তখন লিখেছিলেন, ‘সৌদি সমাজের অভ্যন্তরে বিভিন্ন ইস্যুতে বিতর্কে’ উৎসাহ দেওয়ার কারনেই তাকে বরখাস্ত করা হয়।ওই বছরই অবশ্য তিনি আল আরব নিউজ চ্যানেলের জেনারেল ম্যানেজার পদে নিয়োগ পান। এই চ্যানেলের মালিক ছিলেন প্রিন্স আল ওয়ালিদ বিন তালাল। এটি পরিচালিত হতো বাহরাইনের মানামা থেকে। কিন্তু ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে যাত্রা শুরুর মাত্র এক দিনের মাথায় ওই চ্যানেল বন্ধ হয়ে যায়।সৌদি আরবের বর্তমান যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ক্ষমতা নেয়ার পর খাশোগির সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট হওয়া শুরু হয় সৌদি রাজ পরিবারের । খাশোগি এ সময় যুবরাজের বিভিন্ন ঘরোয়া নীতির সমালোচনা করেন। বিশেষ করে, যুবরাজের সংস্কারের প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও ভিন্নমতালম্বীদের গ্রেপ্তার ও নির্যাতন নিয়ে খাশোগি সরব ছিলেন।মূলত, ক্ষমতায় এসেই বিরাট আকারে দমনপীড়ন শুরু করেন মোহাম্মদ বিন সালমান। আটক করেন অন্য রাজপরিবারের বহু সদস্য, প্রখ্যাত ব্যবসায়ী, অ্যাক্টিভিস্ট ও ধর্মীয় নেতাদের। খাশোগি তখনও লেখালেখি অব্যাহত রাখেন। নিজ দেশে বাকস্বাধীনতার পক্ষে বক্তব্য দেন।
জামাল খাশোগির কাজের প্রশংসায় ওয়াশিংটন পোস্ট এক বিবৃতিতে বলেছে, খাশোগি হলেন নিজ কর্মক্ষেত্র ও দেশে সবচেয়ে প্রখ্যাত চিন্তকদের একজন। ওয়াশিংটন পোস্টে তার সহকর্মী জ্যাসন রেজাইয়ান লিখেন, খাশোগি পাঠকদের কাছে অভেদ্য একটি দেশ সম্পর্কে অন্তদৃষ্টিপূর্ণ মন্তব্য ও তির্যক সমালোচনা উপস্থাপন করতেন। নিজের মাতৃভূমির সমালোচনা করলেও তিনি প্রায়ই দেশের জন্য নিজের ভালোবাসা ও দেশে ফিরে যাওয়ার আকুতি বর্ণনা করেছেন। তিনি প্রায়ই নিজের এই বিশ্বাস পুনর্ব্যক্ত করতেন যে, সৌদি আরব একদিন আরও ভালো করবে।ওয়াশিংটন পোস্টে খাশোগির সম্পাদক ক্যারেন আতিয়াহ বলেন, তার সম্পাদক হিসেবে তার সঙ্গে আলাপচারিতা থেকে আমি বলতে পারি তিনি কত সতভাবে নিজের দেশকে ও জনগণকে ভালোবাসতেন। তিনি মনে করতেন, দেশের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে সত্য চিত্র তুলে ধরা তার দায়িত্ব।
Bangladeshi Taka Converter
No comments
If you have any doubt, please let me know that with your valuable comments.