যে কারণে শান্তি ফিরছে না রাঙ্গামাটি জেলায়!

আঞ্চলিক দলগুলোর মধ্যে নেতৃত্বের কোন্দলের পাশাপাশি চাঁদা আদায় করা কোটি টাকার ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে সৃষ্ট বিরোধের জেরে শান্তি ফিরছে না রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলায়। স্থানীয়দের মতে, বিচারহীনতার সংস্কৃতি, সংঘাত বন্ধ না হবার বড় কারণ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীগুলোর অগ্রযাত্রা ধরে রাখতে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া দরকার। গত দু'বছরে এখানে সন্ত্রাসীদের ব্রাশফায়ারে মারা গেছে অন্তত ৪৫ জন। নানা ব্যবস্থা নিয়েও শান্তি ফিরছে না রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলায়। এক সময় পাহাড়ি-বাঙালি চরম বিরোধ থাকলেও নানা মেরুকরণ এবং সমীকরণ মিলিয়ে এখন সংঘাতে জড়াচ্ছে পাহাড়ি আঞ্চলিক সংগঠনগুলো।
প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী পাহাড়ি সংগঠনগুলোর মধ্যে নেতৃত্ব নিয়ে যেমন চরম বিরোধ রয়েছে, তেমনি বিরোধ রয়েছে চাঁদাবাজির ভাগ-বাটোয়ারার দ্বন্দ্ব।পাহাড়ের আঞ্চলিক সংগঠন জেএসএস এবং ইউপিডিএফ ভেঙে এখন কয়েক ভাগে বিভক্ত। আর এ বিভক্তি রক্তপাতের মূল কারণ বলে মনে করছেন চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার আবদুল মান্নান।গত দু'বছরে রাঙ্গামাটিতে পাহাড়ি সংগঠনগুলোর সংঘাতে মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৪৫ জনের। গত বছরই ভ্রাতৃঘাতে সংঘাতে মারা যায় ৩৫ জন। এর মধ্যে মে মাসেই ব্রাশফায়ারে হত্যা করা হয় ৫ জনকে। সবশেষ বাঘাইছড়িতে সোমবার নির্বাচনী দায়িত্ব পালন শেষে ফেরার পথে সন্ত্রাসীদের ব্রাশফায়ারে মৃত্যু হয় ৭ জনের। প্রতি বছরই সংঘাতে মৃত্যুর হার বাড়লেও এখন পর্যন্ত কোনো হত্যাকাণ্ডেরই বিচার হয়নি। আর বিচারহীনতার সংস্কৃতি সংঘাত বন্ধ না হবার অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় নৃ-বিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর ড. ফরিদ উদ্দিন আহমেদ মতে, পার্বত্য জেলাগুলোতে ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত বন্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া না হলে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলোর অগ্রযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।স্থানীয়দের মতে, রাঙ্গামাটি শহরে জেএসএসের শক্ত অবস্থান থাকলেও প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে সংস্কারপন্থীদের ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। একইভাবে উপজেলা সদরগুলো ইউপিডিএফ মূল দলের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও গোপনে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক।
Bangladeshi Taka Converter
No comments
If you have any doubt, please let me know that with your valuable comments.