সুপার-ঘূর্ণিঝড়-আম্পান!

  • ব্রেকিং নিউস

    সাবধান যুব সমাজঃ সাবধান বাংলাদেশ



    অাজ অামি যুব সমাজকে সবাধান হওয়ার জন্য বলব অাশিক মাহমুদ শুভ নামের এক যুবকের প্রতারিত হওয়া করুন কাহিনী। গঠনার সূত্রপাত প্রায় ৩ বছর আগে মানে ২০১৫ সালের প্রায় শেষের দিকে। যুবকটি সবে মাত্র ইলেকট্রিকাল ইঞ্জিনিয়ারীং পাশ করে চাকরী খুঁজছিল। তাই পার্ট টাইম একটি কোচিং এ ক্লাস নিতো  সে। কিছু দিন পর সেখানে ঢাকার মালিবাগ থেকে এসে ভর্তি হয় মহুয়া অাক্তার পান্না নামে একটি মেয়ে। সে তার বোনের বাড়িতে থেকে পড়াশুনা করতো। সবকিছুই স্বাভাবিক ভাবে চলতে থাকে।

    ছেলেটি ইলেকট্রিকাল ইঞ্জিনিয়ারীং পাশ করছে  বলে খুব তাড়াতাড়ি তার চাকরী হবে এটা তার দৃঢ় বিশ্বাস ছিল।ইলেকট্রিকাল ইঞ্জিনিয়ারীং IUBAT করার কারণে পড়ার প্রচন্ড চাপে প্রেম করার সময় না পাওয়ায় কোন গার্ল ফেন্ড ছিল না। তাই সবাইকে বিয়ের জন্য একটা ভাল মেয়ে খুঁজে দিতে বলতো। কথাটি সে কিছুটা দুষ্টুমি আর কিছুটা সিরিয়াসলি বলতো। সবই ঠিকঠাক চলছিল যদি না তার জীবনে রুশমিতা নামে তার এক ছাত্রীর অাগমন হতো। রুশমিতাকে মেয়ে খুঁজে দিতে বলায়,  সে একদিন ফোনে বলে স্যার অামি কি একটা মেয়ে খুঁজে দেব ? ছেলেটি রুশমিতাকে বলে ভাল হলে খুঁজে দেও। তখন সে বলে স্যার অামার কোন বান্ধবী হলে চলবে। ছেলেটি বলে হবে তবে.. যদি না তার কোন বয় ফেন্ড না থাকে। তাহলে তো সে তখন অার রাজি হবে না। পাশ থেকে মহুয়া অাক্তার পান্না আমি রাজি, বলতো স্যার অামাকে বিয়ে করবে না কি?
    তখন অাশিক একটু ভেবে রুশমিতাকে বলে পান্না অামার স্টুডেন্ট তাই ওভাবে কখনে ভাবি নি। অার এটা হয় না। তখন রুশমিতার কাছ থেকে মোবাইলটা নিয়ে পান্না বলে, কোন স্যার কি তার ছাত্রী বিয়ে করে না? নাকি ছাত্রী বিয়ে করা হারাম?
    তখন অাশিক বলে তা হারাম না হলেও সম্ভব না। তা শুনে পান্না বলে তাহলে অাপনার সাথে অার কখনে কথা বলবো না। অাশিক বলে কথা বলা না বলা তোমার ইচ্ছা।

    তারপর হঠাৎ অাশিক কোন অজানা কারণে কোচিংএ পড়াতে যাওয়া বন্ধ করে দেয়। কয়েক দিন পর রাতে প্রায় ৯.৪৫ মিনিটে পান্নার নাম্বার থেকে অাশিকের বাংলালিংক ০১৯১১-৫৩৫.....  এ ফোন অাসে। সে জানতে চায় কেন সে অার কোচিং এ পড়াতে যায় না। তখন অাশিক বলে অামি Jacquard Programming এর উপর  ট্রেনিং নিচ্ছি। ট্রিনিং শেষে অাশা করি খুব ভাল বেতনে একটা জব হবে। কথায় কথায় পান্না সেই বিয়ের প্রসঙ্গে অাসে ও তাকে বিয়ে করতে বলে। অাশিক মানা করলে সে একই প্রশ্ন করে এবং বলে, কোন স্যার কি তার ছাত্রী বিয়ে করে না? নাকি ছাত্রী বিয়ে করা হারাম?
    তখন অাশিক বলে ঠিক আছে অামি বিয়ে করতে রাজি অাছি কিন্তু আমার কিছু শর্ত অাছে। তখন পান্না জানতে চায় কি শর্ত? তখন আশিক বলে-
    ১। তুমি কখনো অামকে ছেড়ে যেতে বা ডিভোর্স দিতে পারবে না।
    ২। নামাজ পড়তে হবে।
    ৩। বোরকা  ও পর্দা করতে হবে।
    ৪। অামার কথা শুনতে হবে।
    ৫। অামার সাথে ঝগড়া করা যাবে না।
    ৬। অামার ওপর মান অভিমান ও রাগ করা যাবে না।
    ৭। আামার কাছে  মিথ্যা বল যাব না বা কোন ভাবে অআমাকে ধোঁকা দেয়া দেওয়া যাবে না।

    পান্না সবশর্ত মেনে নিয়ে বলে অামারও একটা শর্ত অাছে বিয়ের পর অাপনিও অামাকে ছেড়ে যেতে বা ডিভোর্স দিতে পারবে না। অাশিক ও তার শর্তে রাজি হয়।

    তারপর পরিবারকে জানিয়ে তারা বিয়ে করে। পান্না কোন ভোটার অাইডি না থাকায় তারা পরিচিত হুজুরের কাছে যায় ও বিয়ে করে।বিয়ের পর পান্না চলে যায় তার বোনের বাড়িতে অার অাশিক তার বাড়িতে। সুন্দর ভাবে কয়েকটি দিন কেটে যায়। হঠাৎ করে অাশিকের প্রতি পান্না অাগ্রহ কমতে থাকে। তার সন্দেহ হলে সে রাত ১২ টার পর  পান্নার নাম্বারে কল দিলে সে কল ওয়েটিং দেখেত পায়। সে অনেক বার ফোন দিলেও পান্না তার কল রিসিভ করে না। তাই অাশিক পান্নার বড় দুলাভাইকে ফোন করে ও সে কার সাথে এত কথা বলছে জনতে চায় কিছুটা গরম সুরে। পান্না তাকে ফোন করলে অাশিক তাকে কিছু বকাঝকা করে ও তাদের মধ্যে প্রচন্ড ঝগড়া হয় মোবাইলে। পরদিন পান্নার বড় বোন ঝর্ণা পান্নাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। তখন পান্না তার বাবা মোস্তফা ব্যাপারীর সাথে গাজীপুর থেকে মালিবাগ হাজীপাড়ায় চলে যায়। অার ভর্তি হয় শেরে বাংলা স্কুল এন্ড কলেজে। কিছু দিন পড়ে পান্না অাবার অাশিককে ফোন করে। তখন অাশিক তার বকাঝকা জন্য সরি বলে ও তাকে ভাল করে পড়াশুনা করতে বলে। তখন পান্না তার পড়ার খরচ অাশিক কে দিতে বলে এবং অাশিক তাতে রাজি হয়। কিছু দিন এভাবেই চলে। মাঝে মধ্যে ঘন্টা খানেকে জন্য পান্নাদের হাজীপাড়ার বাসায় অাশিক পান্নার সাথে দেখা করতে যেতো। কিন্তু বাসায় গেলেও পান্না তার সাথে খারাপ ব্যবহার করতো। বই, খাতা, প্রাইভেট, হাত খরচের কথা বলে বিকাশ, ডার্চ বাংলা মোবাইল ব্যাংকিং (রকেট) এর মাধ্যম পান্না শুধু অাশিকের টাকা নষ্ট করতো । টাকার দরকার হলেই পান্না অাশিকের কাছে ফোন দিতো ও মিষ্টি মিষ্টি কথা বলে তার কাছ  টাকা চাইতো। অাশিক জানতো টাকা নেয়া শেষ হলেই পান্না তার সাথে খারাপ ব্যবহার শুরু করবে। বউকে পাগলের মত ভালবাসতো বলে তাকে কষ্ট হলেও খরচের টাকা দিতো।
    দিন দিন অাশিকের প্রতি পান্না অবহেলা অারোও বাড়তে থাকে এবং সেই সাথে বাড়তে থাকে তার ছেলে বন্ধুর সংখ্যা। ফোন দিলেই কল ওয়েটিং। শুরু হয় অাশিকের সাথে পান্নার ঝগড়া । পান্নার অত্যাচার ও খারাপ অাচরণ বেড়েই চলে।
    একদিন হঠাৎ শুধু পান্নার মাকে জানিয়ে ওদের বাসায় যায় অাশিক। শেরে বাংলা স্কুল এন্ড কলেজে থেকে বাসায় ফিরে অাশিক কে দেখেই ব্যাগটা ছুঁড়ে ফেলে খাটের উপর বসে থাকা অাশিককে এলোপাথারি লাথি, কিল, ঘুষি মারতে থাকে পান্না। ছুটে গিয়ে রান্না ঘর থেকে বটি হাতে তেরে অাসে অাশিককে জবাই করতে।এসময় ওর এলাকার চাচা এগিয়ে গেলে প্রাণে বেঁচে যায় অাশিক। অপমান-অপদস্থ করে বাড়ি থেকে অাশিকে বের করে দেয় পান্না। শুধু চোখের পানি মুছতে মুছতে অাকাশের দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে অাশিক। বাড়ি ফিরে লজ্জায় কাউকে কিছু বলতে পারে না অাশিক।

    এভাবে কেটে যায় কিছু দিন। তারপর অাবার পান্নার নাম্বার থেকে কল খুশিতে আত্মহারা হয়ে যায় অাশিক।এবারো পড়ার খরচের কথা বলে টাকা চায় পান্না। অাশিক মানা করে না, বউয়ের প্রতি তার সীমাহীন ভালবাসার কাছে তার বউয়ের খারাপ ব্যবহার ম্লান হয়ে যায় ।

    এর মধ্য অাশিক উত্তরার একটি সুনামধন্য কলেজে অাইসিটি টিচার হিসেবে,  তারপর  ওয়াল্টন, তারপর গ্রামীনে চাকুরী শুরু করে। বদলায় দিন, বদলায় মাস কিন্তু অাশিকের প্রতি পান্না অবহেলা ও অত্যাচার কমে না। বরং দিন দিন বাড়তে থাকে। এভাবে কষ্টে অাশিক পান্না একটু ভালবাসা ও সুন্দর ব্যবহারের জন্য তীর্থের কাকের মত প্রতীক্ষায় থাকে। অবহেলা ও সার্থপরতা ও অন্য ছেলেদের প্রতি অাশক্তির মাঝেই কেটে যায় দের বছর।

    কারণে অকারণে পান্না ঝগড়া বাড়াতে থাকে। কিন্তু অাশিক তার পড়ার খরচ বন্ধ না করেই চালিয়ে যায়। হঠাৎ অাশিক জানেত পারে পান্নার যশোরের নতুন বন্ধু রাহুলের ব্যাপারে। রাহুলের নাম্বারে সে কল করে এবং মহুয়া অাক্তার পান্না ও তার বিয়ের কথা জানায়। অাশিক রাহুলকে বলে, ভাই অাপনার দুইটা পায়ে ধরি অামার সংসারটা ভাঙবেন না। বরং উল্টো রাহুল অাশিকে হুমকি দেয় যে, সে বেশি কথা বললে পান্না কে সে নিয়ে চলে যাবে।অাশিক পান্নাকে বাধা দিলে সে বলে, অামি সবাই কে ছাড়তে পাড়বো কিন্তু রাহুলকে ছাড়তে পারবো না। তখন অাশিক বলে তাহলে তুমি ওকে নিয়েই থাকো।

    কয়েকদিন পর অাশিক জানতে পারে পান্না রাহুলের সাথে ভারতে চলে গেছে ও সেখানে তারা বিয়ে করে সংসার করছে। চার মাস পর অাবার পান্নাকে তার মা সখিনা বেগম ও বাবা মোস্তফা বেপারী অনেক চেষ্টায় বাংলাদেশে নিয়ে অাসে। অাসার এক সপ্তাহ পর পান্না অাশিককে অাবার ফোন করে দেখা করতে চায়।অাশিক প্রথমে দেখা না করতেও চাইলেও পরে রাজি হয়।
    হাজি পাড়ায় গিয়ে পান্নার বাসার সামনে দেখা করে, পান্না তাকে বলে অাপনি তো অামাকে অাগের মত ভালবাসেন না। তাই খবরও নেন না।অাশিক বলে সব কিছু বদলে গেছে, কিছুই অাগের মত নেই।পান্না অাশিক কে বলে অামাকে একটা চাকরির ব্যবস্থা করে দিতে পারবেন, অামি খুব টাকার সমস্যায় অাছি ।  কথায় কথা বাড়ে, পান্না অাশিকের কাছে হাত খরচের টাকা চায়। অাশিক চিন্তা করে শত হলেও ওর কিছু না কিছু কর্তব্য এখনও অাছে। তাই পান্নাকে ৫০০ টাকা দেয়। কিছু দিন পর অাবার অাশিককে দেখা করতে বলে পান্না। এবার তাকে তার বাসায় নিয়ে যায়, তার মায়ের সাথেও কথা হয়। তারপর পান্না বলে তাকে কিছু শপিং করে দিতে, কারণ তার পড়ার তেমন কোন জামা-কাপড়, জুতা নেই। অাশিক তাই মাস শেষ টাকা বেশি না থাকলেও  বাধ্য হয়ে পান্না কে ৭৫০০ জামা কাপড় ও জুতা কিনে দেয়। হাত খরচের জন্যও পান্না  ১০০০ টাকা  অাশিকের কাছে চায়। কয়েক দিন যেতে না যেতেই তার সেই লম্পট প্রেমিক (অবৈধ স্বামী) রহুল যশোর থেকে অাশিক কে ফোন করে গাল মন্দ করে। অাশিক কেন পান্নার সাথে যোগাযোগ করে  তা জানতে চায়।লম্পট রাহুল অাশিককে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। একথায় দু কথায় অাশিকও রাহুল কে বকা দেয়। একথা জানতে পেরে পান্না অাশিকে বকা ঝকা করে। সেদিন পান্না অাশিকে বাড়িতে গিয়ে তার মায়ে কাছে নালিশ করে যে, তার বিয়ে হয়ে গেছে সে ৬ মাসের গর্ভবতী (মিথ্যা)। অাশিক তাকে সর্বদা কল করে বিরক্ত করে। থানায় গিয়ে মামলা করে অাশিক কে জেলে পাঠানোর হুমকি দেয়।

    সেদিন অাশিক বাসায় গেলে তার মা তাকে ধরে কান্না কাটি করে। অাশিক যেন পান্নাকে বিরক্ত না করে তার জন্য অনুরোধ করে। একথা শুনে অাশিক যেন অাকাশ থেকে পড়ে। সে বলে অামি না পান্নাই তো অামাকে ফোন করে।মা অাশিককে শেষ অনুরোধ করে যে, সে যেন কোন কারণেই পান্নার সাথে কথা না বলে। হউক সেটা পান্নার পক্ষ থেকেই বা তার পক্ষ থেকে।

    সারা রাত সেদিন অতীত বর্তমান ভাবতে থাকে। কি হওয়ার কথা ছিল অার কি হল? কোন অপরাধে সে অাজ অপরাধী? স্ত্রীকে ভালবাসা, বিশ্বাস করা কি অপরাধ? নাকি কাউকে সারা জীবন খুশি রাখার চেষ্টা করা অপরাধ? সে দিন রাতে অাশিক অনেক কাঁদে নিরবে একা, নিঃশব্দে।

    তাই অাশিকের অার বুঝতে বাকি থাকে না যে সে মরিচিকার পিছনে ছুটছে। যে সম্পর্কের কারণে সর্বদা সে পান্নার নিঃস্বার্থভাবে উপকার করে তা অাসলে কেবলই ছলনা। স্ত্রীর কাছে থেকে, যাকে সবচেয়ে ভালবাসে সে মানুষটার কাছে বার বার প্রতারিত হয়ে, মায়ের কাছে অাসামি হয়ে অার নিজেকে ধরে রাখতে পারলো না অাশিক। অশ্রু ভেজা চোখে, নিঃশব্দে, খালি পায়ে অাশিক কখন যেন ছাদে গিয়ে দাঁড়ালো সে নিজেও জানে না। অবশেষে অসীম কষ্ট, অার প্রিয় মানুষের প্রতারণার কষ্টে ছাদের কার্ণিশ থেকে সামনে ওপারের পথে পা বাড়ালো অাশিক। শেষ হয়ে গেলে একটা তাজা প্রাণ, নিভে গেল এক উদিয়মান যুব শক্তি। শব্দ শুনে যখন সবাই বাহির হল তখন অাশিকের নিথর রক্তে ভেজা দেহটা পড়ে অাছে মাটিতে।তার খোলা চোখ দুটি যেন বলছে, চলে যাচ্ছি পান্না অনেক দূরে অার বিরক্ত করবো না তোমাকে, সুখে থেকো ভাল থেকো তুমি। অাশিকের মা ছেলে লাশ দেখে চিৎকার দিয়ে ছেলেকে জড়িয়ে ধরে। বাবা অামার কথা বল, কথা বল বাপ। তার মায়ের গগণ বিদারী কান্নায় অাকাশ বাতাস ভারী হয়ে উঠে।
    এ তো কোন অাত্মহত্যা নয় এ যে এক ঠান্ডা মাথার খুন।স্বার্থবাদী মেয়েদের ধোঁকা, প্রতারণা আর বিশ্বাসঘাতগতার জ্বলজ্যান্ত উদাহরণ। এভাবে হয় তো প্রতিদিন কোন না কোন অাশিকের প্রাণ ঝরে য়ায় অকালে।

    তাই যুব সমাজ সাবধন, সাবধান পিতা মাতা, সাবধান বাংলাদেশ এই পান্নারা হয়তো অাপনার অাশে পাশেই অাছে। থাকতে পারে অাপনার কাছেই।তাই সাবধান, সবাই সাবধান।একটু সচেতন হলেই বেঁচে থাকবে অাশিকরা, দেশ হবে সমৃদ্ধ, উন্নত।

    No comments

    If you have any doubt, please let me know that with your valuable comments.

    পৃষ্ঠা

    সর্বশেষ খবর

    COVID-19 থেকে বাঁচার উপায় !