সুপার-ঘূর্ণিঝড়-আম্পান!

  • ব্রেকিং নিউস

    'মেড ইন জিনজিরা' কেরানীগঞ্জের লজ্জা নয় অহংকার

    জিঞ্জিরার ইঞ্জিনিয়াররা
    কেরানীগঞ্জের জিঞ্জিরা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় ৬-৭ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে গড়ে উঠেছে হালকা ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প। তাওয়াপট্টি, টিনপট্টি, আগানগর, বাঁশপট্টি, কাঠপট্টি, থানাঘাট, ফেরিঘাট এলাকার বাসাবাড়ি ভাড়া নিয়ে বিস্তৃতি ঘটেছে প্রায় দুই হাজার ক্ষুদ্র ও হালকা শিল্প। ফ্লাক্স থেকে মোবাইল- সবকিছুই তৈরি হচ্ছে নিয়মিত। বিখ্যাত সব কোম্পানির মালামাল তৈরি করছেন লেখাপড়া না জানা কারিগররা। এদের স্থানীয়ভাবে 'ইঞ্জিনিয়ার' নামেই ডাকা হয়। সবক্ষেত্রেই তাদের অভাবীয় সাফল্য। কথিত আছে, পৃথিবীর যে কোনো পণ্য-যন্ত্রাংশ একবার দেখলেই তা জিঞ্জিরার ইঞ্জিনিয়াররা হুবহু বানিয়ে দিতে পারেন। ভারত ও চীনের তুলনায় জিঞ্জিরার উৎপাদিত বেশির ভাগ পণ্যের দাম কম এবং মানও ভালো বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
    শুধু পণ্য তৈরি করেই ক্ষান্ত নন তারা, অল্প সময়ের মধ্যে ওই পণ্য উৎপাদনকারী মেশিনারিজ প্রস্তুত করেও তাক লাগিয়ে দেন। এমনই একজন কারিগর ১৩ বছর বয়সের কিশোর তোফায়েল হোসেন। সে বিশ্বখ্যাত 'আই ফোন' ফিটিংসকারী হিসেবে কাজ করে। তোফায়েল জানায়, জিঞ্জিরার কারখানাগুলো পারে না এমন কোনো কাজ নেই। সুই, ব্লেড, আলপিন থেকে শুরু করে হেলিকপ্টারও তৈরি করার ক্ষমতা তাদের আছে।
    তোফায়েলের কথায় সায়ও দিলেন আইফোন ফিটিংস কারখানার মালিক শহিদউল্লাহ।
    তিনি জানালেন, ১৯৭৭ সালে তার বড় ভাই নাসিরউদ্দিন সরদার লেনের বাসিন্দা সাহাবুদ্দিন ওরফে কাটাখোর সাহাবুদ্দিন একটি হেলিকপ্টার মেরামত করে তা আকাশে উড়িয়েছিলেন।
    কিন্তু পরবর্তীতে ক্যান্টনমেন্ট থেকে কড়া নিষেধাজ্ঞা দেওয়ায় আর তিনি এ কাজে হাত লাগাতে সাহসী হননি। বিষয়টি ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ১৯৭৭ সালের অক্টোবর মাসের কোনো একদিন। ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের উন্মুক্ত একটি দরপত্রে অংশ নেন ভাই সাহাবুদ্দিন। ওই দরপত্রে পরিত্যক্ত লোহা-লক্কড়ের সঙ্গে দীর্ঘদিনের অকেজো সেনা হেলিকপ্টারের ভাঙাচোরা সরঞ্জামাদিও কিনে আনেন তিনি। দীর্ঘ দুই বছর চেষ্টার পর প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ প্রস্তুত ও সেটিংস করে হেলিকপ্টারটি সচল করতে সক্ষম হন তিনি।
    আপ্লুত শহিদউল্লাহ জানান, ১৯৭৯ সালের মাঝামাঝি সময়ে এক বিকালে ওই হেলিকপ্টার চালু করে সাহাবুদ্দিন উড়তে থাকেন আকাশে। এ নিয়ে ব্যাপক সাড়া পড়ে। এরপরই সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে নিষেধাজ্ঞা আসে। সাহাবুদ্দিনের ছেলে শাহীন মিয়াও এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, হেলিকপ্টার বানানোর স্বপ্ন-সাধ অপূর্ণ রেখেই তার বাবা সাত বছর আগে মারা গেছেন।
    পুরান ঢাকায় সাহাবুদ্দিন পার্টস মার্কেট পরিচালনাকারী শাহীন আফসোস করে বলেন, 'কারও কোনো সহায়তার প্রয়োজন ছিল না, শুধু সরকারি অনুমতি পাওয়া গেলেই আমার বাবা নিরক্ষর হিসেবে হেলিকপ্টার তৈরির বিশ্বরেকর্ড করতে পারতেন।'
    দেশে চা-প্লান্টের নানা উপকরণ প্রস্তুতকারী রেজোয়ান বিশ্বাস জানান, অসম্ভবকে সম্ভব করার মতো অসংখ্য প্রতিভাধর দক্ষ কারিগর জিঞ্জিরার খুপরি কারখানার ঝুপড়ি ঘরে অবহেলায় পড়ে আছেন। কেউই তাদের পাশে দাঁড়ায় না। বরং 'নকলবাজ' বলে গালি দেয়। অথচ এই কারিগরদের সহায়তা দিলে বাংলাদেশে 'শিল্প বিপ্লব' সৃষ্টি করা ওয়ান-টু ব্যাপার।'

    অারোও পড়ুন - মেইড ইন জিঞ্জিরা বিপ্লব

    No comments

    If you have any doubt, please let me know that with your valuable comments.

    পৃষ্ঠা

    সর্বশেষ খবর

    COVID-19 থেকে বাঁচার উপায় !