থ্যালাসেমিয়া কী?

থ্যালাসেমিয়া হল একটি জন্মগত ও বংসগত একটি রক্তরোগ। এই রোগ হলে মানুষের দেহের স্বাভাবিক হিমোগ্লোবিনের গঠন প্রণালিতে ত্রুটি দেখা দেয় অথবা অথবা এই হিমোগ্লোবিন সঠিক মাত্রায় তৈরি হয় না।এই হিমোগ্লোবিন থাকে লাল বা লোহিত রক্তকণিকায়। এই হিমোগ্লোবিনের কাজ হচ্ছে, শরীরে অক্সিজেন বহন করা। এই হিমোগ্লোবিন যখন সঠিক মাত্রায় তৈরি হয় না বা ত্রুটিপূর্ণভাবে তৈরি হয়, তখন অক্সিজেন বহনের সক্ষমতা কমে যায়। একেই আসলে থ্যালাসেমিয়া বলি আমরা।
থ্যালাসেমিয়া হলে সাধারণত যেসব লক্ষণ ও উপসর্গগুলো দেখা যায় : অবসাদ অনুভব, দুর্বলতা, শ্বাসকষ্ট, মুখ-মন্ডল ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া, অস্বস্থি, ত্বক হলদে হয়ে যাওয়া (জন্ডিস), মুখের হাড়ের বিকৃতি, নাকের হাড় দেবে যাওয়া (মঙ্গোলয়েড ফেস), শারীরিক বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হওয়া, পেট ফুলে যাওয়া, গাঢ় রঙের প্রস্রাব।
কাদের থ্যালাসেমিয়া হতে পারে?
বাবা এবং মা যেকোনো একজনের অথবা বাবা মা উভয়েরই থ্যালাসেমিয়া থাকলে তাদের সন্তানের মধ্যেও এই রোগ দেখা দিতে পারে। আবার কিছু কিছু অঞ্চলে এ রোগ বেশি দেখা যায়। যেমন- দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য, ইটালি, গ্রীস ইত্যাদি।
বাবা এবং মা যেকোনো একজনের অথবা বাবা মা উভয়েরই থ্যালাসেমিয়া থাকলে তাদের সন্তানের মধ্যেও এই রোগ দেখা দিতে পারে। আবার কিছু কিছু অঞ্চলে এ রোগ বেশি দেখা যায়। যেমন- দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য, ইটালি, গ্রীস ইত্যাদি।
কিভাবে জানা যাবে থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত বা থ্যালাসেমিয়ার বাহকঃ
হিমোগ্লোবিন ইলেক্ট্রোফোরেসিস পরীক্ষার মাধ্যমে থ্যালাসেমিয়ার বাহক বা আক্রান্ত ব্যক্তিকে সণাক্ত করা যায়। চিকিৎসাঃবোন ম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্টেশন বা অস্থি মজ্জা প্রতিস্থাপন বিটা থ্যালাসেমিয়া মেজরের একমাত্র চিকিৎসা। এছাড়া রক্তশূন্যতার জন্য নিয়মিত রক্ত সঞ্চালনের পাশাপাশি লৌহ অপসারণকারী ওষুধ(IRON CHELATING) দিয়ে চিকিৎসা করা হয়। বারবার রক্ত পরিসঞ্চালনের ফলে প্লীহা(SPLEEN) অতিমাত্রায় আকৃতিতে বৃদ্ধি পেলে প্লীহা (SPLEEN) অপসারণ করা হয়(SPLENECTOMY)।
হিমোগ্লোবিন ইলেক্ট্রোফোরেসিস পরীক্ষার মাধ্যমে থ্যালাসেমিয়ার বাহক বা আক্রান্ত ব্যক্তিকে সণাক্ত করা যায়। চিকিৎসাঃবোন ম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্টেশন বা অস্থি মজ্জা প্রতিস্থাপন বিটা থ্যালাসেমিয়া মেজরের একমাত্র চিকিৎসা। এছাড়া রক্তশূন্যতার জন্য নিয়মিত রক্ত সঞ্চালনের পাশাপাশি লৌহ অপসারণকারী ওষুধ(IRON CHELATING) দিয়ে চিকিৎসা করা হয়। বারবার রক্ত পরিসঞ্চালনের ফলে প্লীহা(SPLEEN) অতিমাত্রায় আকৃতিতে বৃদ্ধি পেলে প্লীহা (SPLEEN) অপসারণ করা হয়(SPLENECTOMY)।
থ্যালাসেমিয়া রোগীরা কখন নিয়মিত রক্ত গ্রহণ শুরু করবে?
রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ ৭ গ্রাম/ডেসিলিটারের কম হলে নিয়মিত রক্ত গ্রহণ করতে হবে এবং হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ ৯-১০.৫ এর উপর রাখতে হবে। শিশুর বৃদ্ধির হার উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমে গেলে। মুখমণ্ডলের অস্থির পরিবর্তন হলে। হৃৎপিণ্ডের বিভিন্ন পার্শপ্রতিক্রিয়া দেখা দিলেথ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধ করা সম্ভব
রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ ৭ গ্রাম/ডেসিলিটারের কম হলে নিয়মিত রক্ত গ্রহণ করতে হবে এবং হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ ৯-১০.৫ এর উপর রাখতে হবে। শিশুর বৃদ্ধির হার উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমে গেলে। মুখমণ্ডলের অস্থির পরিবর্তন হলে। হৃৎপিণ্ডের বিভিন্ন পার্শপ্রতিক্রিয়া দেখা দিলেথ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধ করা সম্ভব
স্ক্রিনিং টেস্ট হিমোগ্লোবিন ইলেক্ট্রোফোরেসিস এবং অন্যান্য পরীক্ষার মাধ্যমে থ্যালাসেমিয়ার বাহক চিহ্নিত করা এবং তাদের প্রত্যেককে জেনেটিক কাউন্সেলিং করা। প্রি ন্যাটাল ডায়াগনসিস-থ্যালাসেমিয়ার জিন বহনকারী মহিলা গর্ভবতী হলে পরীক্ষার মাধ্যমে গর্ভের সন্তানের থ্যালাসেমিয়া আছে কিনা জানা যায় এবং ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায় থ্যালাসেমিয়া জিনের বাহক ব্যক্তি বিবাহ পূর্ব রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হয়ে সঙ্গী নির্বাচন করতে হবে।
থ্যালাসেমিয়া রোগের চিকিৎসা
মাইনর থ্যালাসেমিয়ার ক্ষেত্রে সাধারণত চিকিৎসার কোন প্রয়োজন হয় না। অপরদিকে মেজর থ্যালাসেমিয়ার ক্ষেত্রে, নিয়মিত রক্ত গ্রহন (প্রয়োজনবোধে বছরে ৮ থেকে ১০ বার) করতে হয়। বার বার রক্ত নেওয়ার ফলে বিভিন্ন অঙ্গে অতিরিক্ত লৌহ জমে যেতে পারে এবং এর ফলে যকৃত বিকল হয়ে যেতে পারে। তাই, এরকম ক্ষেত্রে জটিলতা এড়াতে আয়রন চিলেশন থেরাপীর সাহায্যে অতিরিক্ত লৌহ বের করে দেওয়া হয়।
মাইনর থ্যালাসেমিয়ার ক্ষেত্রে সাধারণত চিকিৎসার কোন প্রয়োজন হয় না। অপরদিকে মেজর থ্যালাসেমিয়ার ক্ষেত্রে, নিয়মিত রক্ত গ্রহন (প্রয়োজনবোধে বছরে ৮ থেকে ১০ বার) করতে হয়। বার বার রক্ত নেওয়ার ফলে বিভিন্ন অঙ্গে অতিরিক্ত লৌহ জমে যেতে পারে এবং এর ফলে যকৃত বিকল হয়ে যেতে পারে। তাই, এরকম ক্ষেত্রে জটিলতা এড়াতে আয়রন চিলেশন থেরাপীর সাহায্যে অতিরিক্ত লৌহ বের করে দেওয়া হয়।
অস্থিমজ্জা (বোন ম্যারো) প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে থ্যালাসেমিয়া রোগ হতে সম্পূর্ণভাবে মুক্ত হওয়া যায়। সে ক্ষেত্রে একজন ম্যাচ ডোনার লাগবে। আমাদের দেশে অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপনের ব্যবস্থা না থাকায়, এই অপারেশন দেশের বাইরে গিয়ে করতে হয়।টা খুবই ব্যয়বহুল। আমাদের পাশের দেশে বোন ম্যারো প্রতিস্থাপনে খরচ পড়ে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা। আমাদের দেশে এই চিকিৎসা এখনো শুরু হয়নি। তবে আশা করা যায় অদূর ভবিষ্যতে এটা বাংলাদেশেও করা সম্ভব হবে।
এছাড়াও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী আয়রণ এবং ফলিক এসিড সেবন করতে হতে পারে। আবার জীবনযাপন পদ্ধতিতে কিছু পরিবর্তন আনতে হবে। যেমন- চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যতিত কোন ঔষধ বা ভিটামিন সেবন না করা, সুষম ও পুষ্টিকর খাবার বিশেষ করে ক্যালসিয়াম, জিংক, ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে ইত্যাদি।
নিয়মিত যা করণীয়ঃ
i) নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা করানো।
ii) রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ ১০ গ্রাম/ ডেসিলিটার রাখার চেষ্টা করতে হবে।
iii) হেপাটাইটিস-বি ভাইরাসের টিকা দেওয়া।
iv) শিশুরোগীর ক্ষেত্রে প্রতি তিন মাস অন্তর উচ্চতা, ওজন, লিভার ফাংশন টেস্ট করাতে হবে।
v) আট থেকে ১০ ব্যাগ রক্ত দেওয়ার পর রক্তে লৌহের পরিমাণ নির্ণয় করতে হবে।
vi) রক্তে লৌহের মাত্রা এক হাজার ন্যানো গ্রাম বা মিলি লিটারের ওপরে হলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া।
vii) বিশুদ্ধ রক্ত পরিসঞ্চালন নিশ্চিত করা।
viii) শিশুর প্রতিবছর বুদ্ধি ও বিকাশ পর্যবেক্ষণ করা।
অবশেষে রক্তের একটি জটিল রোগ থ্যালাসেমিয়া। এটি জন্মগত রক্তস্বল্পতাজনিত রোগ। এই রোগে নিয়মিত চিকিৎসকের তত্ত্বাবধায়নে থেকে চিকিৎসা করতে হবে।
থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধে করনীয়
- পরিবারের কারও থ্যালাসেমিয়া রোগের ইতিহাস থাকলে, সন্তান গ্রহনের পূর্বে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
- বিবাহের ক্ষেত্রে পাত্র এবং পাত্রীর রক্ত পরীক্ষা করে দেখতে হবে, তাদের মধ্যে কেউ থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত কিনা। আবার নিকট আত্মীয়দের মধ্যে বিয়ের ক্ষেত্রে থ্যালাসেমিয়া রোগের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। তাই, এ ব্যপারে সাবধান হতে হবে।
Bangladeshi Taka Converter
No comments
If you have any doubt, please let me know that with your valuable comments.