স্বামী হারানো মিতাও চান না পাক-ভারত যুদ্ধ, সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড়

আবার যুদ্ধ হলে কোনও না কোনও মায়ের কোল খালি হবে, স্ত্রী তার প্রিয়তমকে হারাবে, সন্তান হারাবে তার বাবাকে।এমনটাই মনে করেন পুলওয়ামা জঙ্গি হামলায় নিহত বাবলু সাতরার স্ত্রী মিতা সাতরা। কিন্তু এ মন্তব্যের জন্য ট্রলের স্বীকার হতে হয়েছে তাকে।যুদ্ধের বিরোধীতা করায় অনেকেই তাকে পাকিস্তানের দালাল বলছেন,তবুও মিতা অবিচল তার মতে।গত ১৪ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ কাশ্মীর পুলওয়ামায় জইশ-ই-মোহম্মদের হামলায় ৪০ জন ভারতীয় সেনা নিহত হন।নিহতদের তালিকায় রয়েছেন বাবলু সাতরারও। ভূস্বর্গে রক্তাক্ত চিত্র তীব্র প্রভাব ফেলে ভারতীয়দের মানসপটে। পাকিস্তানবিরোধী প্রতিবাদে ফুঁসে ওঠেন তারা।দেশজুড়ে বিরাজ করে শোকের আবহ।
পুলওয়ামা হামলার ১২ দিন পর নিয়ন্ত্রণরেখা পেরিয়ে পাকিস্তানে হামলা করে ভারত।সেখানে ৩০০ পাক জঙ্গি নিহতের দাবি করে নয়াদিল্লি।ভারতের এই পাল্টা হামলায় যখন দেশবাসীর মুখে যুদ্ধের স্লোগান,তখন এর বিপরীতে শান্তির কথা বলায় সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রলের স্বীকার হতে হলো বাবলু সাতরার স্ত্রীকে। কিন্তু এরপরও মিতা তার মতে অবিচল রয়েছেন। সৈনিকের স্ত্রীর মতোই প্রবল মানসিক দৃঢ়তায় তিনি নিজের অবস্থান থেকে সরেননি।ভারতীয় গণমাধ্যম নিউজ ১৮কে তিনি বলেন, ‘এ নিয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া আমার থেকে পাবেন না। তবে জওয়ানদের আরও নিরাপত্তা দেওয়া উচিত ছিল সরকারের। সেনাদের গাড়িতে আইইডি জ্যামার বসানো যেত না?’ শুধু তাই নয় মিতা বলেন, ‘১৪ ফেব্রুয়ারির পর আর কোনও কিছুই আমাকে স্পর্শ করতে পারে না। আমার যা গিয়েছে তা গিয়েছে। তাই যে যা খুশি বলতে পারে। আমি ভয় পাই না।’
পেশায় স্কুলশিক্ষিকা মিতা আধুনিক ইতিহাস নিয়ে এমএ করেছেন। ছয় বছরের একমাত্র মেয়েকে নিয়েই এখন তার পৃথিবী।বৃদ্ধ শাশুড়ির কারণে এখন আপাতত সরকারি চাকরি করার ইচ্ছে নেই তার। মিতা বলেন,‘আমাকে সিআরপিএফ জয়েন করার অফার দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সেটা করব কিনা এখনও ঠিক করিনি। কারণ এই চাকরিতে বদলি হতে হবে।কিন্তু ঘরে আমার বৃদ্ধ শাশুড়ি মা রয়েছেন। আমি তার দেখাশোনা করি।প্রিয়জন হারিয়েও দেশের শান্তির জন্য নতুনভাবে যুদ্ধ দেখতে চান না জঙ্গি হামলায় নিহত বাবলু সাতরার স্ত্রী মিতা সাতরা। কিন্তু এ মানবিক অনুভূতির জন্য ট্রলের স্বীকার হতে হয়েছে মিতাকে।
Bangladeshi Taka Converter
No comments
If you have any doubt, please let me know that with your valuable comments.