যে প্রতিবেদনের জন্য পুলিৎজার পেল রয়টার্স!

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে মুসলিম রোহিঙ্গাদের গণহত্যা, ধর্ষণ ও বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয়ার ঘটনা নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করে সাংবাদিকতার নোবেলখ্যাত পুলিৎজার পুরস্কার পেয়েছে রয়টার্স।নিউইয়র্কের পুলিৎজার সেন্টার থেকে সোমবার আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের হাতে এ পুরস্কার তুলে দেয়া হয়। এ সময় বিশেষভাবে মিয়ানমারে কারাবন্দি রয়টার্সের দুই সাংবাদিক ওয়া লোন এবং কায়াও সোয়ে ওর নাম উল্লেখ করা হয়। ২০০৮ সালের পর থেকে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থাটি এ পর্যন্ত সাতবার পুলিৎজার পেয়েছে।
এই দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিয়ানমারের গোপনীয় নথি সংগ্রহ ও প্রাপ্তি উপনিবেশিক যুগের অফিসিয়াল সিক্রেটস আইন ভঙ্গ করার অভিযোগ তুলে সাত বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। এরপর থেকে তারা মিয়ানমারের কারাগারে বন্দিজীবন কাটাচ্ছেন।পুলিৎজার জয়ের খবরে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় রয়টার্সের শীর্ষ সম্পাদক স্টিফেন জে অ্যাডলার বলেন, এই স্বীকৃতি অত্যন্ত রোমাঞ্চকর। কিন্তু সাংবাদিকরা এখনও কারাবন্দি থাকায় আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।সোমবার ২০১৯ সালের পুরস্কার বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। মার্কিন দৈনিক নিউইয়র্ক টাইমস ও দ্য ওয়াশিংটন পোস্টও দুটি করে পুলিৎজার পুরস্কার জিতেছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনের জন্য ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের পাশাপাশি মার্কিন সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) পুরস্কৃত হয়েছে। ইয়েমেন যুদ্ধের নৃশংসতা তুলে ধরায় পুলিৎজার জিতেছে এপি।রয়টার্সের দুই তরুণ প্রতিবেদক ওয়া লোন এবং কেই সো ও একটি গণকবরের খোঁজ পান। যেটিতে মানুষের হাড়গোড় মাটির ওপর থেকেই দেখা যায়। এরপর হত্যাকারী, প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে প্রতিবেদন তৈরি করেন তারা।গ্রামবাসীর কাছ থেকে তারা ভয়ংকর তিনটি আলোকচিত্র পান। এতে দেখা যায়, ১০ রোহিঙ্গা মুসলমানকে বেঁধে হাঁটু গেড়ে বসিয়ে রাখা হয়েছে। তৃতীয় ছবিটিতে, অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কেটে টুকরো টুকরো করা ও গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে যাওয়া তাদের মরদেহ দেখা গেছে।
এ ছাড়া একটি অগভীর কবরে তাদের একসঙ্গে দাফন করার দৃশ্যও ওই ছবিতে রয়েছে।কিন্তু ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে ওয়া লেন ও কেই সো ও তাদের প্রতিবেদন শেষ করার আগেই গ্রেফতার হন। প্রতিবেদন প্রকাশ বাধা দিতে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের এই অপচেষ্টার নিন্দা জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়।
সূত্র- সিএনএন
Bangladeshi Taka Converter
No comments
If you have any doubt, please let me know that with your valuable comments.