সুপার-ঘূর্ণিঝড়-আম্পান!

  • ব্রেকিং নিউস

    পাঙ্গাশের লোভনীয় মচমচে আচার-পাউডার উদ্ভাবন!

    পাঙ্গাশের লোভনীয় মচমচে আচার-পাউডার

    বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) মৎস্য প্রযুক্তিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. একেএম নওশাদ আলম ও তার গবেষক দল পাঙ্গাশ মাছের সব পুষ্টিগুণ ঠিক রেখে লোভনীয় স্বাদ ও গন্ধের মচমচে পাঙ্গাশের আচার ও পাউডার উদ্ভাবন করেছে।কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশনের আর্থিক সহায়তায় মিঠাপানির মাছের আহরণোত্তর ক্ষতি প্রশমন ও মূল্য সংযোজন প্রকল্পের আওতায় গবেষণাটি পরিচালিত হয়।সস্তা ও সহজলভ্য পাঙ্গাশ মাছ গরিবের আমিষ হিসেবে পরিচিত। তাড়াতাড়ি বড় হওয়ার কারণে থাইল্যান্ডের একটি জাত আমাদের দেশে চাষ হচ্ছে।ভিয়েতনাম বা থাইল্যান্ড উন্নত চাষ পদ্ধতি ব্যবহার করে উন্নত মানের সাদা ফিলেট তৈরি করে ইউরোপের বাজারে রফতানি করছে। আমাদের দেশে নানা কারণে পাঙ্গাশ চাষ পদ্ধতি উন্নত ও আধুনিক করা যাচ্ছে না, ফলে রফতানি সম্ভব হচ্ছে না।বর্তমানে অন্যান্য মাছের উৎপাদন ও জোগান বেড়ে যাওয়ায় পাঙ্গাশের বাজারমূল্য পড়ে গেছে।

    ২০১৪-১৫ অর্থবছরে পাঙ্গাশের উৎপাদন ছিল ৭.৫ লাখ টন, যা বর্তমানে উৎপাদন কমে অর্ধেকে নেমে এসেছে।খাদ্যসহ অন্যান্য উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় চাষিরা লোকসান গুনছেন। অনেকেই পাঙ্গাশ মাছ চাষ ছেড়ে দিয়েছেন। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য পাঙ্গাশ মাছ থেকে পণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে মূল্য সংযোজন করা প্রয়োজন।ড. একেএম নওশাদ আলম ও তার গবেষক দল দীর্ঘ দুই বছর গবেষণা করে পাঙ্গাশের দুটি মজাদার পণ্য উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছেন।আচারটি শুকনো ও মচমচে হওয়ায় প্রায় এক বছরের অধিক কক্ষ তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করা যাবে। আচারটিতে পুষ্টিমান পাওয়া গেছে ৩৭ শতাংশ আমিষ, ২৮ শতাংশ স্নেহ, ১৬ শতাংশ মিনারেল ও ১১ শতাংশ ফাইবার।এক কেজি পাঙ্গাশ থেকে ৩৫০ গ্রাম পাঙ্গাশ আচার পাওয়া যায়, যা উৎপাদন করতে ১২০-১৫০ টাকা খরচ পড়ে।৩৫০ গ্রাম আচার ৪০০-৪৫০ টাকায় বিক্রয় করা সম্ভব। সাধারণ রান্নার যন্ত্রপাতি ও তৈজসপত্র দিয়ে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ বজায় রেখে যে কেউ মচমচে পাঙ্গাশ আচার তৈরি করতে পারবে।


    পাঙ্গাশ একটি চর্বিযুক্ত মাছ। এর চর্বি ও আমিষকে বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় সংরক্ষণ উপযোগী করে পাঙ্গাশ পাউডার তৈরি করা হয়েছে। এক কেজি পাঙ্গাশ থেকে ২০০-২৫০ গ্রাম পাউডার তৈরি করা সম্ভব।পাঙ্গাশের পাউডার প্রায় এক বছরের অধিক কক্ষ তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করা যাবে। পাঙ্গাশের পাউডার দিয়ে আচার, ভর্তা, স্যুপ, নুডুলস, তরকারি খিচুড়ি ইত্যাদি বানানো যায় অথবা একে পাউডার দুধ বা নবজাতকের খাবার, বেকারি পণ্য, বিস্কুট চিপস্ বা অন্যান্য যেকোনো খাদ্যদ্রব্যে মিশিয়ে পুষ্টিগুণ বাড়ানো যায়।মাত্র ১.৫০ টাকা মূল্যের ৩ গ্রাম পাউডার দিয়ে একজনের খাওয়ার উপযোগী ২৫০ মিলি স্যুপ বা ৮০ গ্রাম ওজনের এক বাটি নুডুলস তৈরি করা সম্ভব।পাঙ্গাশের পাউডারে ৪৫ শতাংশ আমিষ, ৩২ শতাংশ চর্বি, ১ শতাংশ মিনারেল ও ৯ শতাংশ ফাইবার পাওয়া গেছে।দ্রুতই পাঙ্গাশের পণ্য দুটি বাজারে পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন প্রধান গবেষক অধ্যাপক ড. একেএম নওশাদ আলম।

    No comments

    If you have any doubt, please let me know that with your valuable comments.

    পৃষ্ঠা

    সর্বশেষ খবর

    COVID-19 থেকে বাঁচার উপায় !