ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে মামলা তদন্ত করবে পিবিআই

ফেনীর সোনাগাজী মডেল থানা পুলিশের ওসি (প্রত্যাহার হওয়া) মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে সাইবার ট্রাইব্যুনালে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সাইদুল হক সুমনের মামলাটি গ্রহণ করেছেন আদালত। সেই সঙ্গে মামলাটি তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আগামী ৩০ এপ্রিল মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার দুপুর ১টার দিকে বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেনের আদালতে আবেদন করেন ব্যারিস্টার সুমন। আদালত তার জবানবন্দি গ্রহণ করে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ এর ২৬, ২৯ ও ৩১ ধারায় করা অভিযোগটি পিটিশন মামলা হিসেবে গ্রহণ করেন। সেই সঙ্গে মামলাটি তদন্ত করে আগামী ৩০ এপ্রিল প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
ব্যারিস্টার সাইদুল হক সুমন জানান, ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৬ ধারাসহ অন্যান্য ধারায় অভিযোগ করা হয়েছে। যৌন হয়রানির অভিযোগ করতে থানায় যাওয়ার পর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির জবানবন্দি রেকর্ডের সময় ভিডিও করা এবং পরবর্তীতে তা সোশ্যাল মিডিয়াতে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, যৌন হয়রানির অভিযোগ করতে যাওয়ার পর সোনাগাজী থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত ওসির কক্ষে আরেক দফা হয়রানির শিকার হতে হয়েছিল নুসরাতকে। ওসি নিয়ম না মেনে জেরা করতে করতেই নুসরাতের বক্তব্য ভিডিও করেন। মৌখিক অভিযোগ নেওয়ার সময় দুজন পুরুষের কণ্ঠ শোনা গেলেও সেখানে নুসরাত ছাড়া অন্য কোনো নারী বা তার আইনজীবী ছিলেন না।
আইনজীবীরা বলছেন, যৌন হয়রানির অভিযোগ করার সময় ভিডিও ধারণের ঘটনায় ওসির বিরুদ্ধে ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনে মামলা করার সুযোগ রয়েছে। ওসির এ ধরনের আচরণের বিষয়ে পুলিশ কর্তৃপক্ষও বলছেন, আইন না মেনে কারোর ভিডিও করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।
সোনাগাজীর ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত আক্তার রাফিকে যৌন হয়রানি করার অভিযোগ রয়েছে ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলার বিরুদ্ধে।এ ঘটনায় নুসরাত থানায় অভিযোগ করলে অধ্যক্ষকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর থেকেই মাদ্রাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির মামলা তুলে না নেওয়ায় নুসরাতকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়।গত ৬ এপ্রিল পরীক্ষার আগমুহূর্তে মিথ্যা কথা বলে নুসরাতকে মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে গিয়ে তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেওয়া হয়। গত ১০ এপ্রিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
সূত্র- যুগান্তর
No comments
If you have any doubt, please let me know that with your valuable comments.