সুপার-ঘূর্ণিঝড়-আম্পান!

  • ব্রেকিং নিউস

    নারী প্রার্থীদের নাচনেওয়ালি আনারকলি ভাবে ভারত

    নারী প্রার্থীদের নাচনেওয়ালি আনারকলি ভাবে ভারত

    ‘মুঝে আলি চাহিয়ে, বজরংবলি চাহিয়ে মাগার আনারকলি নেহি চাহিয়ে’ (আমার আলি চাই, বজরংবলিও চাই; কিন্তু কোনো আনারকলিকে চাই না)।উত্তর প্রদেশের রামপুর থেকে ক্ষমতাসীন দল বিজেপির প্রার্থী জয়াপ্রদাকে লক্ষ্য করে সম্প্রতি এমনই কটাক্ষ ছুড়ে দিয়েছেন একই আসনে রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ দল সমাজবাদী পার্টির প্রার্থী আজম খানের ছেলে আবদুল্লাহ আজম খান।

    কিছুদিন আগেই আজম খান তাকে বলেছিলেন ‘নাচনেওয়ালি’। ৭০, ৮০ ও ৯০-এর দশকের বলিউড, টালিউড, তেলেগু সিনেমার রুপালি পর্দা কাঁপানো অভিনেত্রী জয়াপ্রদা।রুপালি পর্দার জনপ্রিয়তা আর গ্লামারকে পুঁজি করেই একসময় ঢুকে পড়েন রাজনীতিতে। এরপর একবার রাজসভার বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছেন।লোকসভার এমপি হয়েছেন দু-দু’বার। কিন্তু নিজের সেই নাচনেওয়ালি-আনারকলি তকমা ঘোচাতে পারেননি তিনি।শুধু সিনেমার নায়িকা বলেই নয়, ভারতের সব নারী রাজনীতিককেই একই দৃষ্টিতে দেখা হয়। নেতা নয়, জনগণের চোখে আনারকলিই থেকে যান সারাজীবন।

    তা সে যত শক্তিশালী নেত্রীই হন না কেন, বা যত উঁচু পদেই বসুন না কেন। ভারতের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী থেকে শুরু করে তামিলনাড়ুর পাঁচ-পাঁচবারের মুখ্যমন্ত্রী ‘আম্মা’খ্যাত জয়ললিতা, কংগ্রেসের সাবেক সভাপতি সোনিয়া গান্ধী কিংবা হালের ‘দলিতদের চ্যাম্পিয়ন’, বহুজন সমাজ পার্টির নেত্রী মায়াবতী পর্যন্ত। প্রত্যেককেই একইভাবে একই দৃষ্টিতে দেখা হয়।ভারতে জীবনের প্রত্যেকটা ক্ষেত্রেই সংগ্রাম করে টিকে থাকতে হয় নারীদের। রাজনীতির ময়দানের সেই যুদ্ধটাও কোনো অংশে কম নয়। স্বাধীনতার পর থেকে এখন পর্যন্ত ভারতের রাজনীতিতে পুরুষের আধিপত্যই প্রবল। সেটা এতটাই যে, কোনো নারী প্রার্থী যদি এখানে এমপি বা বিধায়ক হতে চান, তাকে শত বাধা-বিপত্তির মধ্য দিয়ে যেতে হয়।

    সমাজের অন্যান্য জায়গার মতো এখানেও প্রবল রূপে হাজির নারীবিদ্বেষ। নিত্য অবহেলা আর গঞ্জনার সঙ্গে সঙ্গে শারীরিক ও মানসিক লাঞ্ছনা। পুরুষ নিয়ন্ত্রিত রাজনৈতিক দলে ভোটের মনোনয়ন পেতে বহু কাঠখড় পোড়াতে হয় তাদের। বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারতে ভোটে দাঁড়ানো নারীদের জন্য একটা দুঃস্বপ্নের মতো।সবচেয়ে বাজে পরিস্থিতি আর বেশি অবমাননার শিকার হতে হয় প্রচার-প্রচারণা চালাতে গিয়ে। কর্মী-সমর্থকদের বেশিরভাগই পুরুষ হওয়ায় প্রায়ই ভয়াবহ যৌন হয়রানির মুখে পড়েন। ভিড়ের মধ্যে কখনও সুযোগ নেন দলের কোনো নেতা। আবার কখনও কর্মী-সমর্থকরাই। ‘ইমেজ’ রক্ষার্থে এসব ঘটনা বেশিরভাগ সময়ই চেপে যান ভুক্তভোগী প্রার্থী।

    সম্প্রতি নির্বাচনী প্রচারণায় এমনই অবমাননার শিকার হন আরেক নারী প্রার্থী তামিল অভিনেত্রী, পরিচালক ও প্রযোজক খুশবু সুন্দর। ভিড়ের মধ্যে কেউ একজন পেছন থেকে জাপটে ধরে তাকে।তবে সঙ্গে সঙ্গে এর উচিত জবাব দিয়েছেন খুশবু। কষে একটা থাপ্পড় দিয়ে দেন ওই ব্যক্তির গালে। খুশবুর মতো একই অভিজ্ঞতার মুখে পড়েছেন বিহারের সুপল আসনের প্রার্থী রণজিত রঞ্জন।সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘সম্মানজনক একটা পদে বা অবস্থানে পৌঁছতে একজন পুরুষের চেয়ে ‘দ্বিগুণ’ খাটুনি খাটতে হয় একজন নারীকে।শিক্ষানবিশিকালে দলের সবাই দমিয়ে রাখার চেষ্টা করে।’ তিনি আরও বলেন, ‘প্রথম প্রথম আমার ঘরের শোবার ঘরেও পারলে ঢুকে যায় দলের কর্মীরা।’

    ভারতের বেশিরভাগ রাজ্যেই নারী প্রার্থীর সংখ্যা একেবারেই হাতে গোনা। এদিক থেকে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ।৪২টি আসনের ৪১ শতাংশই নারী প্রার্থী। রাজ্যের উত্তর চব্বিশপরগনা থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে লড়ছেন টালিউড সুন্দরী নুসরাত জাহান।অন্যসব নায়িকার মতো একই বিড়ম্বনায় পড়েছেন তিনি। সিনেমায় অভিনয় করলেও কখনও বিকিনি পরেননি এ মুসলিম অভিনেত্রী।মনোনয়ন পাওয়ার পরই তার ‘বিকিনি পরা ছবি’সহ অসংখ্য বাজে ছবি ছড়িয়ে পড়েছে অন্তর্জালে। এ ঘটনা তাকে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখে ঠেলে দিয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

    মোদির পক্ষে ভোট করতে ১১ লাখ কর্মীর প্রশিক্ষণ : ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জয় নিশ্চিত করতে দলের ১১ লাখ নেতাকর্মীকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে ক্ষমতাসীন বিজেপি।জনগণের কাছে কোথায়, কখন ও কীভাবে ভোট চাইতে হবে, কীভাবে সাংবাদিক আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সামলাতে হবে- সবকিছুই শেখানো হয়েছে তাদের। মোদি আর দলের আদর্শও ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে মাথার মধ্যে। শুক্রবার এক সাক্ষাৎকারে দলের অন্দরের এসব কথা জানিয়েছেন বিজেপির অন্যতম শীর্ষ নেতা পি মুরালিধর রাও। নেতাকর্মীদের প্রশিক্ষণের দায়িত্বও পালন করছেন তিনি। তিনি বলেন, ‘বিজেপির মতো এমন শক্তি ও সামর্থ্য আর কোনো দলেরই নেই।’ 

    এবারও উত্তর প্রদেশের মন্দিরের শহরখ্যাত বারানসি থেকে লড়ছেন মোদি। বড় আকারের রোডশোর মাধ্যমে আজ শুক্রবারই নিজের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন তিনি। এই আসনে তার বিরুদ্ধে লড়বেন কংগ্রেসের শক্তিশালী নেতা অজয় রায় ও সমাজবাদী পার্টির শৈলিনী যাদব।সেবার মোদি-হাওয়ার তোড়ে তিন লাখ ৭০ হাজার ভোটের বড় ব্যবধানে মোদিকে সংসদে পাঠিয়েছিল বারানসি। মাত্র ৭৫ হাজার ভোট পেয়েছিলেন কংগ্রেস প্রার্থী অজয় রায়। মোদি পেয়েছিলেন প্রায় ৫ লাখ ৮০ হাজার ভোট। সেই নির্বাচনে প্রায় দুই লাখ ভোট পেয়ে এখানে দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন আম আদমি পার্টির প্রার্থী অরবিন্দ কেজরিওয়াল।কিন্তু গত পাঁচ বছরে এখানকার মানুষের মনে নানা কারণে ক্ষোভ জন্মেছে মোদির ওপর। অন্যতম কারণ, নির্বাচিত হওয়ার পর একবারও নিজ আসনের জনগণের খোঁজ নেননি মোদি। বেকারত্ব ও ফসলের ন্যায্য মজুরি না পাওয়ায় মোদির পরে ক্ষ্যাপা কৃষকরাও।

    বারানসিতে বিজেপি যে এবার ভালো অবস্থায় নেই, তা দলীয় কর্মীরাও বিলক্ষণ জানেন। সেই উদ্বেগ থেকেই একেবারে ‘রণপ্রস্তুতি’ নিয়েই নেমেছেন দলের নেতারা। মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার আগে বৃহস্পতিবার বারানসিতে রোডশো করে নিজেদের শক্তি-সামর্থ্য জানান দেয়ার চেষ্টা করে দলটি।

    সূত্র- এনডিটিভি

    No comments

    If you have any doubt, please let me know that with your valuable comments.

    পৃষ্ঠা

    সর্বশেষ খবর

    COVID-19 থেকে বাঁচার উপায় !