সুপার-ঘূর্ণিঝড়-আম্পান!

  • ব্রেকিং নিউস

    বিয়ে সংক্রান্ত দন্ডবিধি (পর্ব-২)

    wife

    ষোল (১৬) বছরের অধিক বয়সী যদি কেউ সম্মতি দিয়ে 'বিনা বিবাহে' দৈহিক সম্পর্কে যায় সেক্ষেত্রে আইনগতভাবে কোন অপরাধ হচ্ছে না। এছাড়া স্বামীর অনুমতি ব্যাতিত কোন স্ত্রী লোকের সাথে পরোকিয়ার মাধ্যমে কোন অনৈতিক সম্পর্কে জড়ালে স্ত্রী লোকের শাস্তি হবে না। যদিও যে পুরুষ এমন সম্পর্কে জড়াল, তার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে।

    বাংলাদেশে প্রচলিত দণ্ডবিধির ৪৯৩ ধারা থেকে ৪৯৮ ধারা পর্যন্ত বিয়ে-সংক্রান্ত বিভিন্ন অপরাধের জন্য শাস্তির বিধান করা হয়েছে:

    ৪৯৩ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি যদি কোনো নারীকে প্রতারণামূলক আইনসম্মত বিবাহিত বলে বিশ্বাস সৃষ্টি করায়, কিন্তু আদৌ ওই বিয়ে যদি আইনসম্মতভাবে না হয়ে থাকে এবং ওই নারীর সঙ্গে যৌন-সম্পর্ক স্থাপন করে, তাহলে অপরাধী ১০ বছর পর্যন্ত যেকোনো মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে।
    ৪৯৪ ধারায় উল্লেখ আছে, যদি কোনো ব্যক্তি এক স্বামী বা এক স্ত্রী জীবিত থাকা সত্ত্বেও পুনরায় বিয়ে করে, তাহলে দায়ী ব্যক্তি সাত বছর পর্যন্ত যেকোনো মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবে। তবে যে সাবেক স্বামী বা স্ত্রীর জীবদ্দশায় বিয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে,বিয়ের সময় পর্যন্ত সে স্বামী বা স্ত্রী যদি সাত বছর পর্যন্ত নিখোঁজ থাকেন এবং সেই ব্যক্তি বেঁচে আছেন বলে কোনো সংবাদ না পান,তাহলে এ ধারার আওতায় তিনি শাস্তিযোগ্য অপরাধী বলে গণ্য হবেন না।

    বাংলাদেশের আইনে বিবাহ বহির্ভূত যৌন সম্পর্ক ও শাস্তির বিধান















    ৪৯৫ ধারা অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি দ্বিতীয় বা পরবর্তী বিয়ে করার সময় প্রথম বা পূর্ববর্তী বিয়ের তথ্য গোপন রাখে, তা যদি দ্বিতীয় বিবাহিত ব্যক্তি জানতে পারে,তাহলে অপরাধী ১০ বছর পর্যন্ত যেকোনো মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবে।
    ৪৯৬ ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি আইনসম্মত বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা ব্যতীত প্রতারণামূলকভাবে বিয়ে সম্পন্ন করে,তাহলে অপরাধী সাত বছর পর্যন্ত সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবে।
    ৪৯৭ ধারায় ব্যভিচারের শাস্তির উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয়েছে,যদি কোনো ব্যক্তি এমন কোনো নারীর সঙ্গে তার স্বামীর সম্মতি ব্যতীত যৌনসঙ্গম করে এবং অনুরূপ যৌনসঙ্গম যদি ধর্ষণের অপরাধ না হয়,তাহলে সে ব্যক্তি ব্যভিচারের দায়ে দায়ী হবে, যার শাস্তি সাত বছর পর্যন্ত যেকোনো মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডসহ উভয় দণ্ড। এ ক্ষেত্রে নির্যাতিতাকে অন্য লোকের স্ত্রী হতে হবে। তবে ব্যভিচারের ক্ষেত্রে স্ত্রীলোকের কোনো শাস্তির বিধান আইনে নেই।
    ৪৯৮ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো বিবাহিত নারীকে ফুসলিয়ে বা প্ররোচনার মাধ্যমে কোথাও নিয়ে যাওয়া এবং তাকে অপরাধজনক উদ্দেশ্যে আটক রাখা অপরাধ। এ ধারা অনুযায়ী অপরাধী ব্যক্তি দুই বছর পর্যন্ত যেকোনো মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডসহ উভয়
    ধরনের শাস্তি পাবে।

    ধর্ষণ সম্পর্কে 'নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন,২০০০' এ বলা আছে-
    "যদি কোন পুরুষ বিবাহ বন্ধন ব্যতীত ষোল বৎসরের অধিক বয়সের কোন নারীর সাথে তাহার সম্মতি ছাড়া বা ভীতি প্রদর্শন বা প্রতারণামূলকভাবে তাহার সম্মতি আদায় করিয়া অথবা ষোল বৎসরের কম বয়সের কোন নারীর সহিত তাহার সম্মতিসহ বা সম্মতি ব্যতিরেকে যৌন সঙ্গম করেন, তাহলে তিনি উক্ত নারীকে ধর্ষণ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন।"
    এখন, গুরুতর এই অপরাধের মধ্যবর্তী সীমানা নির্ধারণ করছে 'সম্মতি দেয়া বা না দেয়া'। সেক্ষেত্রে নারীর ষোল (১৬) বছর বয়সের কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ ষোল (১৬) বছরের কম বয়সী কারও সম্মতিক্রমে তার সাথে দৈহিক মিলন করলেও তা দন্ডনীয় অপরাধ হবে এবং ধর্ষণকারী পুরুষ শাস্তি পাবে।
    কিন্তু ষোল (১৬) বছরের অধিক বয়সী যদি কেউ সম্মতি দিয়ে 'বিনা বিবাহে' দৈহিক সম্পর্কে যায় সেক্ষেত্রে কিন্তু আইনগতভাবে কোন অপরাধ হচ্ছে না।
    অবশ্য ইসলামী আইনে ইসলাম 'সম্মতি-অসম্মতি উভয় ক্ষেত্রে' নারী-পুরুষের বিবাহ বহির্ভূত দৈহিক মিলনকে দন্ডনীয় অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করেছে। এখানে কোন বয়সের উল্লেখ নেই। যেকোন বয়সের নারী পুরুষ উপরোক্ত শর্ত পূরণ করলেই হল।
    এক্ষেত্রে নারীর সম্মতি থাকলে সেও শাস্তি পাবে। না থাকলে পাবে না। কেননা যে দৈহিক সম্পর্ক স্থাপন করতে পারে তাকে বালেগ হিসেবে ধরা হবে।
    তাহলে যেটা দাঁড়ালো, 'সম্মতি ছাড়া' বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ইসলাম ও দেশীয় আইন উভয়ের চোখে অপরাধ।আর 'সম্মতিসহ' সম্পর্ক ইসলামে অপরাধ তবে দেশীয় আইনে নয়।

    সূত্র- bdhotnews

    No comments

    If you have any doubt, please let me know that with your valuable comments.

    পৃষ্ঠা

    সর্বশেষ খবর

    COVID-19 থেকে বাঁচার উপায় !