তৈরি হচ্ছে দেশের প্রথম টানেল, কাজের উদ্বোধন ২৪ ফেব্রুয়ারি

উন্নত দেশের মত বাংলাদেশও অচিরেই প্রবেশ করবে টানেলের যুগে। বাংলাদেশে এই প্রথম তৈরি হচ্ছে যাতায়াতের জন্য ভূগর্ভস্থ টানেল। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে প্রথম টানেল হচ্ছে চট্টগ্রামে। কর্ণফুলী নদীর তলদেশে এটি নির্মাণ করা হচ্ছে। আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে এই টানেলের নামকরণ করা হবে। কর্ণফুলী টানেল প্রকল্পটি নয় হাজার ৮৮০ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। যার মধ্যে বাংলাদেশ সরকারের অর্থ সহায়তা তিন হাজার ৯৬৭ কোটি ২১ লাখ টাকা এবং চীন সরকারের অর্থ সহায়তা পাঁচ হাজার ৯১৩ কোটি ১৯ লাখ টাকা।
২টি টিউব সম্বলিত মূল টানেলটির দৈর্ঘ্য ৩.৪ কিলোমিটার এবং টানেলের পশ্চিম ও পূর্ব প্রান্তে ৫.৩৫ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক এবং ৭২৭ মিটার ওভার ব্রিজসহ এই টানেলটি চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলাকে শহরাঞ্চলের সাথে যুক্ত করবে।সোমবার বনানীর সেতু ভবনে সেতু কর্তৃপক্ষ ও নৌবাহিনীর মধ্যে চুক্তি সই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এ কথা বলেন।এ টানেল নির্মাণ প্রকল্পের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিয়েছে নৌবাহিনী। চার বছর মেয়াদি এ প্রকল্পের নির্মাণ চলাকালে এর নিরাপত্তায় নৌবাহিনী। সোমবার সেতু ভবনে সেতু কর্তৃপক্ষের পক্ষে প্রধান প্রকৌশলী কাজী ফেরদৌস ও নৌবাহিনীর পক্ষে নেভাল অপারেশন্সের পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক এমন চুক্তিতে সই করেন।
এ সময় নৌবাহিনী প্রধান আবু মোজাফফর মহিউদ্দিন মোহাম্মদ আওরঙ্গজেব চৌধুরী, সেতু বিভাগের সচিবসহ ঊধ্বর্তন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।ওবায়দুল কাদের বলেন, আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টানেল বোরিং মেশিনটি চালুর মাধ্যমে কর্ণফুলী টানেল খনন কাজের উদ্বোধন করবেন। এ পর্যন্ত প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি শতকরা ৩২ ভাগ। ২০২২ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
মন্ত্রী আরো বলেন, চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সিকিউরিটি সাপোর্ট ইউনিট কর্ণফুলী টানেল নির্মাণ প্রকল্প এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা প্রদান করবে। চুক্তির মেয়াদ হবে ৪ বছর।প্রায় ৬৫ কোটি টাকার চুক্তিপত্রে বংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের পক্ষে প্রধান প্রকৌশলী কাজী মো. ফেরদাউস এবং বাংলাদেশ নৌবাহিনীর পক্ষে নেভাল অপারেশনস এর পরিচালক এবং সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি সুপারভিশন কনসালটেন্ট এর প্রধান সমন্বয়ক কমোডর মাহমুদুল মালেক নিজ নিজ পক্ষে স্বাক্ষর করেন।প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম শহরকে বাইপাস করে সরাসরি কক্সবাজারের সাথে সহজ যোগাযোগ স্থাপিত হবে। ফলে চট্টগ্রাম শহরের যানজট কমাসহ ভ্রমণ সময় উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।
সূত্র- ডিএমপি নিউজ
Bangladeshi Taka Converter
No comments
If you have any doubt, please let me know that with your valuable comments.